Sunday, May 1, 2011

কৃষি খাতে আবার ইইএফ চালু হবে :গভর্নর

সমকাল প্রতিবেদক 
কৃষি খাতে নতুন ইকুইটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনার ফান্ড (ইইএফ) আবারও চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর . আতিউর রহমান। এখন খাতের প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা চলছে। শিগগির আবেদনপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি। ইইএফের উদ্যোক্তা সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গভর্নর এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইইএফ পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য . আবদুস সাত্তার, আইসিবির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হারুনুর রশিদ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। গভর্নর বলেন, পরিধি বিস্তৃত করে ইইএফকে আরও উদ্যোক্তাবান্ধব করার চেষ্টা চলছে। আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণকারী সাহী শিল্পোদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের তহবিলের আওতায় আনা হবে। এছাড়া তহবিলের মাধ্যমে টেকনো-এন্টারপ্রেনার সৃষ্টি করা হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য . আবদুস সাত্তার বলেন, দেশে উদ্যোক্তা বাড়লেও সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছেন না। এছাড়া প্রযুক্তিগত ব্যবহারও সব পর্যায়ে সমান নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে বর্তমানে আধুনিক সব সহায়তা দিতে প্রস্তুত। আইসিবির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সৃষ্টি করতে ইইএফ যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। স্য পোলট্রি শিল্পে প্রকল্প থেকে অর্থায়ন করায় দেশের চাহিদা সহজে পূরণ হচ্ছে।
একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে। 
আইসিবি এমডি ফায়েকুজ্জামান বলেন, কৃষি, কৃষিভিততিক শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ইইএফ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামীতে কৃষি খাতের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে একাধিক কৃষি খাত উদ্যোক্তা অভিযোগ করেন, ইইএফ তহবিল পরিচালনায় জনবল কম থাকায় প্রকল্পের অর্থায়নে অনেক সময় লেগে যায়। এছাড়া তরুণ বা নতুন উদ্যোক্তাদের ইইএফ সহায়তা করতে চায় না। বক্তারা নতুন বা তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান। 
শুরু থেকে পর্যন্ত ইইএফ তহবিল থেকে কৃষি খাতে ৬১৭টি প্রকল্পে হাজার ২১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ২১৬টি প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৫৬৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৪০১টি প্রকল্পে ৬৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা, নারী, উপজাতি উদ্যোক্তা, মঙ্গাপীড়ি এলাকা এবং পার্বত্য এলাকার প্রকল্প মঞ্জুরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে প্রকল্প ব্যয়ের সর্বনিম্ন সীমা ৫০ লাখ থেকে কমিয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ ছিল

No comments:

Post a Comment